ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিবের

  • আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৫ ০৬:৩৭:০৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৫ ০৬:৩৭:০৫ অপরাহ্ন
রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিবের
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ লাখ লোকের সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল শুক্রবার  প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে ইফতারের স্থল ক্যাম্প-২০ এর ডেমো হিলে প্রবেশ করতে থাকেন রোহিঙ্গারা। জানা গেছে, ইফতারে ছিল ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, জিলাপি, বেগুনি, শরবতসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খাবার।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, আন্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামার পর বেশ কিছু অনুষ্ঠানিকতা শেষ করে উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন। এসব অনুষ্ঠান শেষ করার পর জাতিসংঘ মহাসচিব উখিয়ায় প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার করেন। পরিদর্শন ও ইফতার শেষে সন্ধ্যায় একসঙ্গে ঢাকায় ফিরবেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব। সফরের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজার বিমানবন্দরের একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এর আগে, শুক্রবার  দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স যোগে কক্সবাজারে পৌঁছান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।
এদিকে, বিকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে আমি দুটি স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি। প্রথমত, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমারে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার তারা যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গারা আরও ভালো পরিবেশ চায় ক্যাম্পে। দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অনেক দেশ সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে মানবিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এই কারণে আমাদের মানবিক সহায়তার মধ্যে খাবারের রেশন কমাতে হয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যত দেশ সম্ভব আমি কথা বলবো, যাতে ফান্ড পাওয়া যায় এবং এর থেকে আরও খারাপ পরিস্থিতি না আসে।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে জাতিসংঘ পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার (১৪ মার্চ) এক এক্স বার্তায় এ কথা জানান তিনি। এক্স বার্তায় তিনি বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের জনগণকে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংস্কার ও রূপান্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতিসংঘ সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস এ নিয়ে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর। প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে তিনি রমজানে সংহতি জানাতে বাংলাদেশে আসছেন। প্রতি বছর তিনি রমজানে মুসলিম দেশগুলোতে সফর করে থাকেন। এ ছাড়া সফরে তিনি রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা করবেন। সেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয়টি উঠে আসবে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারের সময়ে বাংলাদেশির পাশে থেকেছে। ফলে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সংহতি চলবে। কী ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হবে এবং অগ্রাধিকার বিষয়গুলো কী, তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বা আগামীতে নির্বাচিত সরকার জাতিসংঘকে জানাবে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণার পর রোহিঙ্গাদের জন্য বাজেট কমছে নানা খাতে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ তাদের শঙ্কার কথা জানাবে। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বর্তমান মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে ত্রাণ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া রাখাইন সীমান্তে এখন সরকারি কোনো বাহিনী দায়িত্বে নেই। ফলে সেখানে কোনো ধরনের দরকষাকষি বা লেনদেনে ঝুঁকি রয়েছে।
ঢাকায় ফেরার পর আরও ব্যস্ত সময় পার করবেন জাতিসংঘের মহাসচিব। আজ শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে জাতিসংঘের সব কর্মীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর সেখান থেকে দুপুরে হোটেলে ফিরে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন গুতেরেস। পরে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ ও নাগরিক প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এদিন বিকেলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও জাতিসংঘের মহাসচিবের একটি যৌথ প্রেস ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে। আর সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আন্তোনিও গুতেরেসের সৌজন্যে ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। আগামী রোববার সকালে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে আন্তোনিও গুতেরেসের।
উল্লেখ্য, চার দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকায় আসেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রায় সাত বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স